এইমাএ পাওয়া

সেমিতে প্রাধান্য উপমহাদেশের

জুন ১৩, ২০১৭

স্পোর্টস ডেস্ক, বিনিয়োগ বার্তা:

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে জায়গা করে নেয়া চারটি দলের মধ্যে উপমহাদেশের প্রাধান্যই বেশি।কেননা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে এই লড়াইয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। এশিয়ার বাকি একমাত্র দেশ, শ্রীলঙ্কাকে বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে।

‘এ’ গ্রুপে উপমহাদেশের মধ্যে ছিল কেবল একটি দল, বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মত দলকে বিদায় করে দিয়ে এই গ্রুপ থেকে শেষ চারে উঠেছে মাশরাফিরা। উপমহাদেশের বাকি তিন দল- ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা ছিল ‘বি’গ্রুপে। বাকি দলটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিতে উঠবে দুটি দল। সেই দুটি জায়গা দখল করে নিল ভারত এবং পাকিস্তান। বিদায় নিয়েছে শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।

একটি ম্যাচও জিততে পারেনি ক্রিকেটের সবচেয়ে সাফল্যমণ্ডিত দল অস্ট্রেলিয়া। প্রথমটি ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। হেরে যেতে পারতো অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বৃষ্টি বাঁচিয়ে দিয়েছিল তাদেরকে। ১ পয়েন্ট এনে দিল। দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। নিশ্চিত জয়ের ম্যাচ। কিন্তু এবারও বৃষ্টি। পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দিল। শেষ ম্যাচে অবশ্যই জিততে হতো, কিন্তু হট ফেভারিট ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো স্টিভেন স্মিথের দলকে।

দক্ষিণ আফ্রিকা বরাবরের মতোই আইসিসির বড় টুর্নামেন্টে চোকার্সের খ্যাতি পেয়ে আসছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। যদিও সব সময় তারাই টপ ফেবারিট কিন্তু এবারের টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে এসে আচমকা হেরে বসে পাকিস্তানের কাছে। এরপর শেষ ম্যাচে হারলো ভারতের কাছে। সুতরাং, র্যাং কিংয়ে এক নম্বর দল হয়েও বিদায় নিতে হয়েছে তাদেরকে।

তিন নম্বরে থাকা ভারত এবারও টপ ফেবারিট। দুই সেরার বিদায়ে তো তাদেরকে ফেবারিট আরও বেশি বলা যায়। শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও বাকি দুই ম্যাচ জিতে অনায়াসেই শেষ চারে উঠে গেছে বিরাট কোহলির দল। চার নম্বরে থাকা ইংল্যান্ড এবারই সবচেয়ে বেশি ফেবারিট মনে হচ্ছে। কারণ, এখনও পর্যন্ত একমাত্র দল হিসেবে তারা অপরাজিত। তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে তারা উঠেছে শেষ চারে।

পঞ্চম দল নিউজিল্যান্ডে প্রতিভার অভাব নেই। যে কোনো প্রতিষ্ঠিত দলকে চোখ বন্ধ করে দেয়ার মত শক্তি এবং সামর্থ্য রয়েছে তাদের। তবুও এই দলটি এবারের টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ট্র্যাজিক। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভাসলো। ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর অবিশ্বাস্যভাবে হেরে বসেছে বাংলাদেশের কাছে। গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট হিসেবে কোনো প্রভাবই বিস্তার করতে পারলো না তারা।

র্যাং কিংয়ে ছয় নম্বরে থাকা বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান বলতে গেলে। প্রথম ম্যাচে ৩০৫ রান করেও হার। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১৮১ রান পুঁজি করেও নিশ্চিত হারকে বৃষ্টি এসে বাঁচিয়ে দিল। এই ম্যাচের পরই হিসাব-নিকাশ শুরু, কিভাবে সেমিতে যেতে পারে বাংলাদেশ। নিজেদের কাজ ছিল একটাই, নিউজিল্যান্ডকে হারানো। সেই কাজটা করে দিলেন মাহমুদউল্লাহ আর সাকিব। বাকি কাজগুলো ছিল নিয়তি নির্ভর। সেই নিয়তির খেলা শেষ পর্যন্ত গেলো বাংলাদেশের পক্ষেই। সেমি নিশ্চিত হয়ে গেলো মাশরাফিদের।

বিনিয়োগ বার্তা/জিকো