এইমাএ পাওয়া

সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় ১০ জন নিহত 

মার্চ ২২, ২০১৬

বিনিয়োগবার্তা প্রতিবেদক : রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা, ভাংচুর, কেন্দ্র দখল, কারচুপি আর ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার শেষ হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন সাতজন।
এরমধ্যে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে পাঁচজন এবং কক্সবাজারে বিজিবির গুলিতে একজন ও নেত্রকোনায় পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পৃথক ঘটনায় কক্সবাজারে মারা গেছেন আরও একজন। ভোট চলাকালে ঝালকাঠিতে নিহত হন একজন। ফল ঘোষণার পর সিরাজগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
সংঘাত ও সহিংসতায় ১০ জনের প্রাণহানি ও ছয় শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় ম্লান হয়ে গেছে তৃণমূলের এই ভোট উৎসব। ৩৬ জেলার মধ্যে অন্তত ১৬ জেলায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বেশি সহিংসতার খবর এসেছে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে। এদিকে ভোট শেষ হওয়ার পরে রাতে ইসি কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়। যে সব কেন্দ্রে অনিয়ম হওয়ার পরেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বৈঠকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রথম ধাপে দেশের ৩৬টি জেলার ৭১২টি ইউপিতে ভোট নেওয়া হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চার শতাধিক ইউপির চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীতরা বিজয়ী হয়েছেন। মাত্র ২৫টি ইউপিতে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ৫৪টিতে সরকারদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পরপরই বেশ কয়েকটি ইউপিতে অনেক প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তাদের বেশিরভাগই বিএনপি মনোনীত হলেও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীও রয়েছেন। প্রায় সাত হাজার কেন্দ্রের মধ্যে অনিয়মের অভিযোগে ৬৫টি কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এই নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করা হয়েছিল। গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রার্থী, সমর্থকসহ আহত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পরই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, সুষ্ঠু পরিবেশেই ভোট হয়েছে। বিপুলসংখ্যক ভোটার উপস্থিত ছিল। অল্প কিছু কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সহিংসতায় নিহত ও আহতদের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার মো. আবু হাফিজ জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে ভোটের হার ৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে। তার মতে, সাত হাজারের মতো কেন্দ্রের মধ্যে তুলনামূলক সহিংসতার ঘটনা কমই ঘটেছে।
এদিকে ভোট শুরুর পর পরই রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উৎসব আমেজে ইউপির ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি অভিযোগ করেছে, ভোট জালিয়াতি হয়েছে ব্যাপকভাবে। সব ইউপিতে অনিয়ম হয়েছে এমন দাবি করে তারা দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য অন্তত ৫০টি ইউপির ভোট বাতিলের দাবি জানায়।
দেশে এবারই প্রথম স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তরের এই নির্বাচন হচ্ছে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে। এই ধাপের চেয়ারম্যান পদে ১২১টি ইউপিতে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি মনোনীত কোনো প্রার্থী নেই। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়াও এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, জাসদ, বিকল্পধারা, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বিএনএফ, সিপিবি, তরীকত ফেডারেশন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ন্যাপ অংশ নিয়েছে।
আগামী জুনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছয় ধাপে দেশের চার হাজার ২৭৫টি ইউপিতে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
শেষ মুহূর্তে ৭ ইউপির ভোট স্থগিত
প্রথম দফায় ৭৫২টি ইউপির তফসিল ঘোষণা করা হলেও আদালতের নির্দেশে কয়েকটি ইউপির তফসিল স্থগিত রাখা হয়। সোমবার পর্যন্ত ইসির হিসাবে ৭১৯টিতে ভোট হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভোট শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে ৫টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগের রাতে আদালতের নির্দেশে বগুড়ার সারিয়াকান্দির কাজলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের সোনারামপুর ইউনিয়নে তফসিল স্থগিত করা হয় এবং মঙ্গলবার সকালে ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ও রমাগঞ্জ, বোরহানউদ্দিনের বড়মানিকা ও পক্ষিয়া এবং চরফ্যাশনের চরমানিকা ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ১১টি ইউনিয়নে ভোট হবে আজ বুধবার এবং কক্সবাজারের টেকনাফের দুটি ইউনিয়নে হবে ২৭ মার্চ।
পিরোজপুর :
মঠবাড়িয়া উপজেলার ২নং ধানীসাফা ইউনিয়নের ধানীসাফা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষে গণনা চলছিল। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হারুন অর রশীদের নৌকা প্রতীকের আটশ’ ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা এর প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল যুবক স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভোট বাতিলের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। এ সময় বিজিবি ও পুলিশ মিছিল লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহাদাৎ (৩৫), সোহেল (২৫) ও কামরুল (২৫) নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে বেলাল (৩১), সোলায়মান (২৫) বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ইয়াসিন (১৬) নামে এক কিশোর। নিহত সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে জানা গেছে।
পিরোজপুরের জেলা পুলিশ সুপার ওয়ালিদ হোসেন জানান, ব্যালট বাক্স ছিনতাইকালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা আক্রমণকারীদের ওপর গুলি চালাতে বাধ্য হন। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বিজিবি ২৯ রাউন্ড ও পুলিশ ২-৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া বড়মাছুয়া ইউনিয়নে মধ্য মাছুয়া ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষে ৩ জন আহত হন।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের ইকড়ি বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইকড়ি নেছারিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে সংঘর্ষে আহত হন ৫ জন। শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের দক্ষিণ শিয়ালকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে ৬ জন আহত হয়েছেন।
কক্সবাজার :
ফল ঘোষণা শেষে ব্যালট বাক্স নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উপজেলা সদরে ফিরে আসার পথে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের মুণ্ডারপাড়া বড় মাদ্রাসা কেন্দ্রের সামনে পৌঁছলে পরাজিত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূরুল হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ প্রার্থী সোনা আলীকে কারচুপি করে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ভোট পুনর্গণনার দাবি জানায়। এ সময়ে কিছু লোক ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায়। এতে নিহত হন নূরুল হোসেনের ভাই আবদুল গফুর।
এদিকে শাহপরীর দ্বীপে দুই পক্ষের সংঘর্ষে স্থানীয় দুদু মিয়ার ছেলে শফিক আলম (২৮) নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্তি পুলিশ ও বিজিবি পাঠিয়ে রাত ১০টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
এর আগে সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাপানিছড়া কেন্দ্রে দুপুর ১২টার দিকে মেম্বার প্রার্থী আবুল হোসেন রাজু ও ওমর হাকিমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন ১২ জন। এ ছাড়া টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
নেত্রকোনা :
খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের আধাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের সমর্থকরা জোর করে ভোটকেন্দ্রের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করলে লোকজনের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে প্রথমে পুলিশ এক রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে।
এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের ভাই কাউসার গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের একজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঝালকাঠি :
সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের কালিয়ান্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী সজীব হোসেনের সমর্থকরা জাল ভোট দিতে গেলে চুন্নু সিকদারের সমর্থকরা বাধা দেয়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মেম্বার প্রার্থী চুন্নু সিকদারের ভাই আবুল কাশেম সিকদার নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন ৫ জন। এদিকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মনীন্দ্র নাথ জানান, নিহত আবুল কাশেম সিকদারের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
ঝালকাঠি পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, নির্বাচনী সহিংসতায় কেউ মারা যাননি, অন্য কোনো কারণে মারা যেতে পারেন। এদিকে রাজাপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের পৃথক সংঘর্ষে অর্ধশত আহত হয়েছেন। নলছিটি উপজেলায় বিজয়ী মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে এবং ৫টি কেন্দ্রে হামলায় তিন মেম্বার প্রার্থীসহ কমপক্ষে ৩২ জন আহত হয়েছেন। গোয়ালকাঠি, দপদপিয়া, তিমিরকাঠি, পশ্চিম কমদাবপুর ও শিকদারেরহাট কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় তিন মেম্বার প্রার্থীসহ কমপক্ষে ৩২ জন আহত হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ :
রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের জয়েনপুর গ্রামে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিজয়ী মেম্বার প্রার্থী নবাব আলীর সমর্থকদের ওপর পরাজিত প্রার্থী সামিদুল হকের সমর্থকদের হামলায় নওনাই বেওয়া নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও ১০ জন আহত হন। নিহত ওই নারী বিজয়ী প্রার্থী নবাব আলীর শাশুড়ি বলে জানা গেছে।
ডিবি পুলিশের ওসি ওয়াহেদুজ্জামান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নাসির উদ্দিন নাজিরের অভিযোগ, জানকীগাঁতী-বারইভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম সরোয়ার লিটনের লোকজন জোর করে দখল করে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে শুরু করে। বিএনপির সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন।
বরিশাল :
বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের মুরারবাড়ি সদ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অসাবধানতাবশত নিজের রাইফেলের গুলিতে আল-আমিন নামের এক আনসার সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তিনি বিশারকান্দি ইউনিয়নের উমারেরপাড় গ্রামের আ. মালেকের ছেলে। সৈয়দকাঠি ইউনিয়নে পূর্ব সৈয়দকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আ. মন্নান মৃধা ও বিদ্রোহী প্রার্থী নূর হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন।
একই ইউনিয়নের ইন্দেরহাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষে সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মৃধাসহ ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন। উদয়কাঠি ইউনিয়নে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দু’জন আহত হয়েছেন। গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ঢাকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী মোহাম্মদ হাওলাদার ও কুদ্দুস মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন। মাহিলাড়া ইউনিয়নের শরিফাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী মিন্টু সিকদার ও হারুন অর রশিদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন।
ভোলা :
এখানকার ৩৭ ইউনিয়নের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুর, গোলাগুলি, সংঘর্ষ ও ব্যালট ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সহিংসতা ও নির্বাচনে বাধার অভিযোগে সাতটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দিনব্যাপী সহিংসতার ঘটনায় নিপ্পন চাকমা নামের এক পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে শতাধিক।
নোয়াখালী :
হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমদ ও বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন মুহিনের সমর্থকদের মধ্যে গুলিবিনিময় ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার শাহাদাত হোসেন ও পোলিং অফিসার আবদুল আউয়াল।
কুমিল্লা :
দেবীদ্বারের ফতেহবাদ ইউনিয়নের বড়কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন ঘোষঘর গ্রামের সোহেল ও ইসমাইল। এ ঘটনায় আহত হন আরও পাঁচজন।
লক্ষ্মীপুর :
রামগতি উপজেলার চরপরগাছা ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মাঠে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল আমিন ও বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিনের সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। কমলনগর উপজেলার হাজীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তোরাবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ও বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন।
বাগেরহাট :
মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিংজোড় চণ্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের সময় দুর্বৃত্তদের লাঠির আঘাতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মেম্বার প্রার্থী মিলন শেখকে আটক করে পুলিশ। গোপালকাঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পাঁচজন আহত হন। শরণখোলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী খান মতিয়ার রহমানের ভাইপো সেলিমকে পিটিয়ে আহত এবং ধানসাগর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান দুলালের দুই সমর্থককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন আহত হন।
সাতক্ষীরা :
তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্রকাটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপিতে বাধা দেওয়ায় চার আনসার সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা হলেন-মিরাজ, কামরুল, ফরিদা ও নার্গিস। কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের কলাটুপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসলামুল হক গভীর রাতে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে জোর করে ব্যালট নিয়ে বাক্স ভর্তি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নানা অনিয়মের অভিযোগে এ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের সাতটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়।
শেরপুর :
নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের গোবিন্দনগর-কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের আবদুস সবুর ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হাসানুজ্জামান রিয়াদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। মরিচপুরাণ ইউনিয়নের উত্তর কুন্নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেলে দুই মেম্বার প্রার্থী আজাহার আলী ও মো. আলমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। কলসপাড় ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকায় জাসদের প্রার্থী ফকর উদ্দিন নয়নের সমর্থকদের হামলায় বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম রিয়াজুলসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া রূপনারায়ণকুড়া, যোগানিয়া, রাজনগর, পোড়াগাঁওয়ে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে আরও ১০ জন আহত হন।
এছাড়া সহিংসতায় পটুয়াখালীতে ২৫, বরগুনায় ২০, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ ও বগুড়ায় ২জন আহত হয়েছেন।
বিনিয়োগবার্তা/হিমেল/সৌরভ