এইমাএ পাওয়া

সমস্যায় জর্জরিত বেনাপোল বন্দর

মে ২০, ২০১৭

শাহিদুল ইসলাম শাহীন, বিনিয়োগ বার্তা:

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল । রাজস্ব আয়ও বেশ ভালোই রয়েছে কিন্তু আধুনিকতায় পিছিয়ে বন্দরটি। এতে হতাশ ব্যবসায়ীরা
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আধুনিকতার ছোয়া পেলে পণ্য আমদানি-রপ্তানির গতি বাড়তো। তাতে একদিকে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়তো অপরদিকে ব্যবসায়ীরাও লাভবান হত।

তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল বন্দরের নানা ধরনের জটিলতার জন্য আমদানিকৃত পন্য এনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

অপরদিকে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন বন্দরের সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্য উপরিমহলকে অবগত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের ২২ টি স্থল বন্দরের মধ্যে মাত্র ১১ টি বন্দর চালু রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই বেনাপোল বন্দর। বেনাপোল বন্দরটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । ব্যবসা বানিজ্যর জন্য ও কোলকাতার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভাল বেনাপোল বন্দরের। মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টায় কোলকাতা থেকে পন্য নিয়ে আসা যায় এই বন্দরে।

স্থল বন্দর বেনাপোল এর ওয়্যারহাউজের ভিতর সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় রাস্তাঘাট ও পন্যগারের বেহাল দশা। যেখানে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পন্য রাখা যায় সেখানে চাপাচাপি করে রাখতে হচ্ছে ১ লাখ টন এর উপরে। জায়গা সংকটের কারনে অপরিকল্পিত ভাবে রয়েছে পন্য। রেল লাইনের খাদে পড়ে রয়েছে আমদানিকৃত পন্য। ওয়্যারহাউজের ভিতর সামান্য পানি হলে হাটু পানি হয়ে দাঁড়ায়। কাদায় হাটা চলা যায় না। সব মিলিয়ে একটি হজবরল অবস্থা। রাতদিন বন্দর এলাকায় পন্যজট লেগে থাকে।

যার ফলে রাস্তায় সারাদিন যানযটের কারনে মানুষ চলাচল করতে পারে না। বন্দরে কোন সিসি ক্যামেরা না থাকায় চুরির প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে আনসার সদস্য পর্যন্ত দুস্কৃতকারিদের আঘাতে নিহত হয়েছেন। এরপরও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোন ব্যাবস্থা না নেওয়ায় জনমনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল বন্দরে জনবল সংকটের কারনে বহিরাগত দৌরাত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রতিটি শেডে দেখা যায় ষ্টোর কিপাররা একজন দুইজন করে লোক রেখে দিয়েছে তাদের কাজের সুবিধার জন্য। আর এতে করে চুরি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্দরের সামনে একাধিক দোকান গড়ে উঠেছে সেখানে বন্দরের আমদানিকৃত পন্য কিনতে পাওয়া যায়। নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার কারনে ব্যবসায়িদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকে এ বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে গেছে। যার ফলে বেনাপোল কাষ্টমস হাউজ পর পর ৪ বছর তাদের লক্ষমাত্রা পুরুন করতে পারছে না।

অপরদিকে বেনাপোল বন্দরের উপরে ভারতের পেট্রোপোল বন্দরে বানিজ্য সম্প্রসারনের জন্য অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা পুরা ওয়্যারহাউজ জুড়ে রয়েছে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত।

এখানে নিচ্ছিদ্র পাহারায় রয়েছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনি বিএসএফ। রয়েছে চোরাচালান প্রতিরোধে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি অত্যাধুনিক স্কানিং মেশিন। এ সমস্থ কোন কিছুর বালাই নেই বেনাপোল বন্দর এলাকায়।

বিনিয়োগ বার্তা/ জিকো