এইমাএ পাওয়া

লাইলাতুল মেরাজ আজ

মে ৪, ২০১৬

ডেস্ক, বিনিয়োগবার্তা: আজ বুধবার সূর্যাস্তের পর মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল মেরাজ। ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসীদের কাছে এ রাত অসামান্য এবং অলৌকিকতার। পবিত্র এ রাতে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) মানব সম্প্রদায়ের স্রষ্ঠা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে মোলাকাত করেন, ধর্মীয় পরিভাষায় দিদার লাভ করেন।

কথিত আছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এ মানব ও মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ঘনিষ্ট বন্ধু হজরত মোহাম্মদ এ রাতে হযরত জিব্রাঈল (আ.) এর সঙ্গে পবিত্র কাবাঘর থেকে ফিলিস্তিনের বায়তুল মোকাদ্দেস হয়ে সপ্তাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় আরশে আজিমে আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন। আরশে আজিমে যাওয়ার সর্বশেষ ধাপে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) ৭০ হাজার নুরের পর্দা পেরিয়ে দেখা পান বন্ধুর। সেখানে ইসলাম ধর্মাবলম্বি তথা উম্মতদের জন্য দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম হয় এবং মহান আল্লাহর এ বার্তা নিয়ে প্রিয় নবী দুনিয়ায় ফেরেন নোবেহ সাদেকের আগে।

মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে দিদারের সময় আখেরি নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) দেখেন সৃষ্টি জগতের অপার মহিমা। এটি ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসী এবং মহানবীর জীবনে সবচেয়ে আলোড়িত ঘটনা। ওই রাতের এ ঘটনাকে বর্ণনা করা হয়েছে ‘মেরাজ’ হিসেবে।

‘মেরাজ’কে ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে আলোড়িত ঘটনা বলা হয় এজন্য যে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ও নবীকূলের শিরমনি হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো নবী ও রাসুল আল্লাহর দিদারের পরম এ সৌভাগ্য অধিকারি হতে পারেননি।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআনখানি, নফল নামাজ, জিকির-আসকার, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া-দরুদ পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে পবিত্র শবে মেরাজ পালন করবেন। এদেশেও একইভাবে পবিত্র এ দিনটি পালনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

মেরাজ একটি আরবী শব্দ, ঊর্ধ্বারোহণকে বুঝানো হয়। এ মেরাজের বড়দাগে অর্থ দাঁড়ায়-সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন ও ধনুক কিংবা তার চেয়ে কম দূরত্বে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ। এ ছিল আল্লাহ তাআলার মহান কুদরত, অলৌকিক নিদর্শন, নবুয়তের সত্যতার পক্ষে এক বিরাট প্রমাণ। জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ, মোমিনদের জন্য প্রমাণ, হেদায়েত, নেয়ামত, রহমত, মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে হাজির হওয়া, ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন, অদৃশ্য ভাগ্য সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান লাভ, ইহকাল ও পরকাল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, স্বচক্ষে জান্নাত-জাহান্নাম অবলোকন, নভোমন্ডল পরিভ্রমণ এবং সর্বোপরি এটিকে একটি অনন্য মুজিযা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

পারিভাষিক অর্থে নবুয়তের একাদশ সালের ২৭ রজবের বিশেষ রাতের শেষ প্রহরে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম জিব্রাঈলের (আ.) সঙ্গে আল্লাহর নির্দেশে বায়তুল্লাহ হতে বায়তুল মুক্বাদ্দাস পর্যন্ত ‘বোরাক’ (বিশেষ ধরনের কুদরতি বাহন) যান। সেখান থেকে অলৌকিক সিঁড়ির মাধ্যমে সপ্ত আসমান পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে যান। রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে দিদারের পর হযরত মোহাম্মদ সাল্লেলাহি ওয়াসাল্লাম একই বাহনে আবার বায়তুল মুক্বাদ্দাস হয়ে সূর্য উঠার আগেই মক্কায় নিজ গৃহে ফেরেন। অলৌকিক এ ভ্রমনকে ‘মেরাজ’ বলা হয়।

মেরাজ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্ত্বা তিনি, যিনি তার স্বীয় বান্দাকে রাতের বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করালেন, যার চতুর্দিকে আমার রহমত ঘিরে রেখেছে, যেন আমি কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। এই রাত উম্মতে মোহাম্মাদীর খুব ফজিলতের রাত্রি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ ১৪৩৭ হিজরি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বুধবার বাদ মাগরিব বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মি’রাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক এক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। এই মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল। ওয়াজ করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ।

বিনিয়োগবার্তা/রাসেদ