এইমাএ পাওয়া

যেভাবে অটিজমের সনাক্ত করবেন

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: শিশুর ছোটবেলার চঞ্চল আচরণ কে না জানে। তবুও প্রতিটি শিশুর কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে। প্রত্যেকেই নিজস্ব সময়ে বেড়ে ওঠে। সময় মেনে কথা বলা শেখে, খেলা শেখে, বসে, হাঁটে। কিন্তু অটিজমের শিকার শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু অস্বাভাবিকতা থেকে যায়। প্রথমদিকে টের না পেলেও পরে বোঝা যায়। শুরুতেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারলে তার জীবনটা অনেকটায় গোছানো হতে পারে। তার মানসিক দক্ষতার উন্নতি ঘটানোর জন্য এই ব্যবস্থা খুবই জরুরি। তার জীবন সঠিকভাবে চালনার জন্য যতো দ্রুত সম্ভব শিশুর মাঝে অটিজমের লক্ষণগুলো সনাক্ত করতে হবে। শিশুর নিশ্চিত জীবন দানে আপনার বাচ্চা অটিজমে ভুগছে কিনা তা যাচাই করে নিন। সেজন্য কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে-

নাম ধরে ডাকুন

একটি সুস্থ শিশু বাবা-মা অথবা অন্য কারো মুখে নিজের নাম শুনলে সাড়া দেবে। অটিজমে ভুগছে এমন শিশুদের বেশিরভাগই নিজের নাম শুনলে সাড়া দেয় না।

আনমনা

সুস্থ একটি বাচ্চা কোনো কিছু দেখে মুগ্ধ হলে একবার সেটার দিকে তাকায়, আরেকবার মায়ের দিকে তাকায়। জিনিসটির দিকে হাত ইশারা করে, মুখে শব্দ করে। কিন্তু অটিজমে আক্রান্ত শিশুর মাঝে এই কাজটা করতে দেখা যায় না। তারা নিজেদের উৎসাহ অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করে না বা করতে পারে না।

অনুকরণে উৎসাহী নয়

অন্য বাচ্চারা যেভাবে নড়াচড়া করে, একজন আরেকজনের দেখাদেখি তালি দেয়। কিন্তু অটিস্টিক বাচ্চারা অন্যদের দেখে হাত নাড়ায় না।

একা একা খেলা করে না

বাচ্চারা পুতুল নিয়ে, ঘরবাড়ি বানিয়ে খেলা করে। খেলনা টেলিফোন নিয়ে কথা বলার ভান করে। ছোট্ট ছোট্ট হাঁড়িপাতিল নিয়ে রান্নার ছলে খেলা করে। কিন্তু অটিজম থাকলে এমন খেলার প্রবণতা দেখা যায় না।

কারো প্রতি স্পর্শকাতর হয় না

সাধারণত বাচ্চারা অন্যদের আবেগ দেখলে নিজেরাও আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে। যেমন অন্যকে হাসতে দেখলে তারাও না বুঝেই হাসে। কিন্তু অটিজম আছে এমন শিশুরা এটা সাধারণত করে না।

করণীয়

বাচ্চার বয়স ১২ মাস হওয়ার সময় থেকেই পিতামাতার এই ব্যাপারগুলোর দিকে নজর রাখা উচিৎ। কোনো কিছুতে খটকা লাগলে শিশুর ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা উচিৎ। এক বছর অর্থাৎ ১২ মাস বয়সে এগুলো ছাড়াও আরও কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে যেমন কাউকে না ডাকা, হামা না দেওয়া, ধরে ধরে হাঁটার চেষ্টা না করা ইত্যাদি। এসব লক্ষণের প্রতি থাকুন সতর্ক।