এইমাএ পাওয়া

মায়ের কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত দিতি

মার্চ ২১, ২০১৬

বিনিয়োগ বার্তা ডেস্ক:: ঢাকার অদূরে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মা বাবার কবরের পাশেই চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্র নায়িকা পারভীন সুলতানা দিতিকে।

দুপুর পৌনে ২টায় সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়ার নিজ বাড়ির সামনের মসজিদের মাঠে শেষ জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। দিতির মামা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন জানাযার নামামের ইমামতি করেন। জানাযা শেষে বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে মা ও বাবার পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও ইউএনও আবু নাসের ভূইয়া, উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার, সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, সোনারগাঁও থানার ওসি মঞ্জুর কাদের, পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, সনমান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাবউদ্দিন সাবু, সোনারগাঁও নাগরিক কমিটির সভাপতি এটিএম কামাল, দিতির ছেলে সাফায়েত হোসেন দীপ্ত চৌধুরী, দিতির বড় ভাই মনির হোসেন, পারভেজ হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও টিপু প্রমুখ। এছাড়া তার পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ঢাকার এফডিসি ও গুলশানে একাধিক নামাজের জানাযা শেষে লাশবাহী গাড়িতে করে সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় দিতির লাশ পৌছায় দত্তপাড়া গ্রামে।
উল্লেখ্য, সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া গ্রামের মৃত আবুল খলিফার চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তৃতীয় হলেন দিতি। দিতি ছোট বেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আশির দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। দিতি ছাড়াও তার বড় ভাই মনির হোসেন ও পারভেজ দুজনেই গান গাইতেন। ছোট বোন নাসরিন এক সময় মডেলিং করতেন। আরেক ভাই আনোয়ার ছবি আঁকার সাথে জড়িত।

১৯৭৪ সালে দিতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেড়িয়ে ভর্তি হন সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ সোনারগাঁও জি আর ইনস্টিটিউশনে। এখানে পড়াশুনার পাশাপাশি দিতি নিয়মিত গান গাইতেন। মূলত গায়িকা হিসেবেই স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি ঘটে। ১৯৭৯ সালে সোনারগাঁও জি আর ইনস্টিটিউশন থেকে এস এস সি পাশের পর দিতি পড়াশুনার সুবাদে চলে যান ঢাকায়। সেখানে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ে জড়িয়ে পড়েন। এক সময় নায়িকা হিসেবে শক্ত অবস্থান দখল করেন বাংলা চলচ্চিত্রে। একের পর এক ব্যাবসা সফল ছবির মাধ্যমে দিতি জয় করে নেন দশর্ক হৃদয়। বাংলা চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়লে তিনি স্বেচ্ছায় বাংলা চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান। সর্বশেষ তিনি টিভি নাটকের সাথে জড়িত ছিলেন।