এইমাএ পাওয়া

বেড়েছে গরুর মাংস ডিম চিনির দাম

মে ২০, ২০১৬

গরুর মাংস ডিম চিনির দাম

ফেরদৌস আহমেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক,বিনিয়োগবার্তা:

দেশের বাজারে পন্যের দাম বাড়ছেই। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পর্যাপ্ত মজুদ আছে, রোজায় বাড়বে না পন্যের দাম। কিন্তু রোজার আগেই সব ধরনের পন্যের দাম বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় বাড়ছে গরুর মাংসসহ বেশ কয়েকটি পন্যের দাম। সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমনটিই জানা গেছে।

 

কয়েকদিন আগে রাজধানীতে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৩৮০ টাকা থেকে ৪২০ টাকা শুক্রবার তা বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায়। প্রতিকেজি গরুর মাংসের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা। শুধু গরুর মাংসই নয়, বাজারে ব্রয়লার মুরগি, ডিম, চিনির দাম বেড়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজারে খোজ নিয়ে এমনটিই জানা গেছে।

 

গরুর মাংসের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা জানান, একদিকে রমজান সামনে অপরদিকে গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি ভারতীয় গরু আনতে সীমান্ত এলাকায় আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ ঘুষ দিতে হয়। ফলে গরুর মাংসের দাম বাড়ছে।

 

তারা আরও বলেন, রমজানে সিটি করপোরেশন মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেয়। এবার রমজানে যদি সিটি করপোরেশন দাম নির্ধারণ করতে না পারে তাহলে নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে যাবে মাংসের বাজার।

 

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, আগে ভারত থেকে গরু আনার সময় সীমান্তে ১ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হতো। এখন তার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আর এ কারণে মাংসের দাম বাড়ছে বলে জানান তিনি।

 

শুক্রবার (২০ মে) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা থেকে ৬২ টাকায়, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৫৫ টাকা থেকে ৫৮ টাকা। এ ছাড়া প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৬৫ টাকা থেকে ১৭০ টাকায়। তবে বাজারে খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি খাসির মাংস ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

খুচরা বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৪ টাকা থেকে ৩৬ টাকায়, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩২ টাকা থেকে ৩৪ টাকায়। শুক্রবার পাইকারি বাজারে ব্রয়লার মুরগির একশ ডিম ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮২০ টাকায় (একশ)।

 

বাজারে ছোলার দামও বেড়ে অপরিবর্তিত আছে। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। এ ছাড়া বাজারে প্রতিকেজি মসুর ডাল (দেশী) বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা, নেপালী মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়।

খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, রমজান সামনে রেখে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে প্রভাব পড়ছে।

বাজারে রসুনের দাম সামান্য কমেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২৩০ টাকা থেকে ২৪০ টাকায়। বাজারে দেশীয় রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১১০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায়।

খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ (দেশি) ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় এবং আমদানি করা পেয়াজ ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সরকার ঘোষণা দিয়েছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুদ আছে। কোনো পন্যের দাম রমজানের আগে বাড়বে না। অথচ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তি। সরকার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছ তদারকি থাকলে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলে মনে করেন তারা।

এদিকে বাজারে দুয়েকটি ছাড়া বেশির ভাগ কাঁচাপণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। রাজধানীর স্বামীবাগ, কাপ্তানবাজার, সেগুনবাগিচা গিয়ে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন ৩০-৩৫ টাকায়, সাদা গোলাকার বেগুন ৩০ টাকায়, গাজর ৩০-৩৫ টাকায়, শসা ২৫-৩০ টাকায়, ঝিঙে ৩০-৩৫ টাকায়, চিচিঙ্গা ২৫-৩০ টাকায়, পেঁপে ৫০-৬০ টাকা, ধুন্দুল ৩০-৩৫ টাকায়, শালগম ৩০-৩৫ টাকায়, বরবটি ৩০-৩৫ টাকায়, কচুর ছড়ি ৩০-৩৫ টাকায়, লতি ৩০-৩৫ টাকায়, কাঁচামরিচ ৬০ টাকায় (গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা), টমেটো ৩০-৩৫ টাকায়, করলা ৩৫-৪০ টাকায়, ঢেঁড়স ৩০-৩৫ টাকায়, উচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়, পটল ২৫-৩০ টাকায়, শজনে ৬০ টাকায় এবং কাকরোল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

খুচরা বাজারে প্রতিটি বড় লাউ ৩৫ টাকায় এবং ছোট লাউ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ছোট কুমড়া ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং বড় কুমড়া ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

বাজারে সয়াবিন তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকায়। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা থেকে ৪৫৫ টাকায়। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯২ টাকা থেকে ৯৫ টাকায়।