এইমাএ পাওয়া

বাজেটে হতাশ এমসিসিআই

জুন ৩, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা:
ব্যবসায়ীদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে হতাশার কথা জানিয়েছে । শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাজেটের ওপর এক আলোচনায় এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সংগঠনটির নেতারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রফতানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি ছাড়া বিশ্বের কোনো দেশই ৮ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। বাজেটে এ খাতের ওপর আরো গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন ছিল। শুধু পোশাক খাত নয়, অন্যান্য খাতেও করপোরেট কর কমানোর প্রয়োজন ছিল। ব্যবসায়ের খরচ কমানোর বিষয়েও বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবির। এর পর বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার।
বাজেট আলোচনায় নিয়ে নিজের উপস্থাপনা তুলে ধরেন এমসিসিআইয়ের ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন সাব-কমিটির সাবেক সভাপতি আদিব এইচ খান ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ। পরে বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ। এর পর উন্মুক্ত আলোচনা হয়।
নিহাদ কবির বলেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবৃদ্ধির মডেল অনুসরণ করলেও প্রস্তাবিত বাজেটে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, উচ্চহারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলেও নতুন কর্মসংস্থান সংকোচন হচ্ছে। এটি ভীষণ উদ্বেগের বিষয়, প্রস্তাবিত বাজেটে যা বিবেচনায় নেয়া উচিত ছিল। এছাড়া সব খাতের ব্যবসায়ীরা বহুদিন ধরে করপোরেট ট্যাক্স কমানোর দাবি জানিয়ে এলেও বাজেটে শুধু পোশাক খাতের ক্ষেত্রে করপোরেট ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এমসিসিআই এতে হতাশ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এটি দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও উত্পাদনমুখী খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া আবগারি শুল্ক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করবে। এমসিসিআই রাজস্ব আহরণকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।
আর্থিক খাতের সুশাসন ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বাজেটে কিছু নেই মন্তব্য করে এমসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন ও প্রয়োগে সরকার যেন খুব কঠোর ও শাস্তি প্রদানমূলক মানসিকতা প্রকাশ না করে, তা দেখতে হবে। এছাড়া ট্যাক্স কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা আরোপ না করার দাবিও জানান তিনি।
এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, বাজেটে দুটি বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। একটি হলো— ব্যবসার খরচ কীভাবে কমানো যায়, অন্যটি ব্যবসা প্রক্রিয়া কীভাবে আরো সহজ করা যায়। আর্থিক খাতের সুশাসনের বিষয়ে বাজেটে দিকনির্দেশনা থাকার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তা নেই। বাজেট ঘোষণার আগে আমাদের সঙ্গে অনেক আলোচনা করা হয়েছে, পরামর্শ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এসবের প্রায় কোনোটিরই প্রতিফলন প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যায়নি। এতে আমরা হতাশ হয়েছি।
ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে বাজেটে আর্থিক খাতের সুশাসনের বিষয়টি উল্লেখ থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। আমদানি বিকল্প শিল্পে সুরক্ষা এবং রফতানি সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, বাজেটে এ দুটি বিষয় পরস্পর সাংঘর্ষিক অবস্থায় বিরাজ করছে।
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং পুরো বিশ্বের সমস্যা। এ পরিস্থিতির জন্য সরকার অনেকাংশে দায়ী, পাশাপাশি আমরাও দায়ী। আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখলাম যে, বাজেটে ব্যবসার খরচ কমানোর প্রসঙ্গে কিছু নেই। জানি না কোন বিবেচনায় আবগারি শুল্কের মতো সুপ্ত বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসা হলো। এটি প্রত্যাহার করে নিলে মঙ্গল।
এ সময় ভ্যাটের বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। সেসঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে যে অর্থ স্থানান্তর হচ্ছে, এটি শোধরানোর বিষয়ে উদ্যোগ নিতে এমসিসিআইকে অনুরোধ জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমাদের অনেক বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে অগ্রাধিকার দিতে হয়। প্রান্তিক অর্থনীতির অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও কাজ করতে হয়। আবগারি শুল্ক সবসময়ই ছিল, যদিও এ নিয়ে তথ্য ঘাটতিও ছিল। অর্থনীতির কালো মেঘ যেন ঝড় না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।