এইমাএ পাওয়া

বাজেটে তিনটি  দাবি করেছে বিজিএমইএ

মে ২৮, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা

আগামী  ২০১৭–১৮ অর্থবছরের বাজেটে তিনটি দাবি জানিয়েছে তৈরী পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এর মধ্যে পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে আগামী দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা,দুই বছরের জন্য উৎসে কর অব্যাহতি ও পাঁচ বছরের জন্য করপোরেট কর ১০ শতাংশ করার দাবি করেছে সংগঠনটি।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর কার্যালয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির, মাহমুদ হাসান খান, পরিচালক আশিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি ভালো নেই। আমরা যদি কোনোভাবে দুই বছর নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারি, তবে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হব।’ অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও এনবিআরের চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পোশাকশিল্পের ওপর প্রত্যক্ষ করের বোঝা না চাপিয়ে পরোক্ষভাবে এই শিল্প সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী অবদান রাখছে সেটি বিবেচনায় নিন।’

বর্তমান পরিস্থিতিকে পোশাকশিল্পের জন্য ‘সংকটময়’ উল্লেখ করে আগামী দুই বছরের জন্য উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি করেন সিদ্দিকুর রহমান। বর্তমানে পোশাক রপ্তানিতে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে পোশাকশিল্পকে সুরক্ষা দিতে আগামী দুই বছরের জন্য পোশাক রপ্তানিতে প্রচলিত সুবিধাগুলোর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা চান সভাপতি, যা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে করপোরেট কর হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং রাজস্বসহ অন্যান্য নীতি পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখার দাবি করেন তিনি।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। ইউরোর দরপতন, বেক্সিট ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রভাবে পণ্যের মূল্য কমে গেছে। অন্যদিকে গত দুই বছরে গ্যাস-সংকটসহ নানা কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে পোশাক রপ্তানিতে গড়ে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকলেও চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিলে প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

নতুন বাজারেও পোশাক রপ্তানি আশানুরূপ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন বিজিএমইএর সভাপতি। তিনি বলেন, ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েও জাপানের বাজারে সেভাবে অনুপ্রবেশ করা যাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বাজারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সব মিলিয়ে গত ১০ মাসে নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে গত কয়েক বছর প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫-২০ শতাংশ।

প্রতিযোগী দেশের মুদ্রার তুলনায় বাংলাদেশি মুদ্রা শক্তিশালী হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানোর কথা বলেন সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে ৩২ শতাংশ। আর বাংলাদেশি মুদ্রা শক্তিশালী হয়েছে ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। টাকার এ মান বৃদ্ধি রপ্তানি খাতের ওপর একধরনের কর আরোপ।

কারখানার ত্রুটি সংস্কারে অতিরিক্ত ব্যয়, বন্দরের কম সক্ষমতা এবং প্রতিযোগী দেশের নীতি সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, একদিকে পণ্যের অব্যাহত দরপতন, অন্যদিকে বছরে গড়ে ৮ শতাংশ উৎপাদন খরচ ও সংস্কারকাজের ব্যয় বৃদ্ধি আমাদের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। সে জন্য কারখানাগুলো প্রতিযোগী ক্ষমতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এ জন্য গত কয়েক বছরে ১ হাজার ২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছর আমরা পোশাকশ্রমিকদের প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা মজুরি দিয়েছি। এ ছাড়া অন্যান্য সেবা খাতে পরিশোধ করেছি ৯ হাজার টাকা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দিকে লক্ষ্য রেখে আগামী বাজেটে পোশাকশিল্পকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে।’