এইমাএ পাওয়া

ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন অধ্যাপক মাহফুজা খানম

এপ্রিল ৮, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা:
জন্ম জয়ন্তীতে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন বিশিষ্ট সংগঠক, খেলাঘরের চেয়ারপারসন, ঢাকসু’র সাবেক ভিপি অধ্যাপক মাহফুজা খানম। শুধু ফুলেল শুভেচ্ছাই নয় তার ভক্ত, অনুসারী, বিশিষ্টজন, শুভাকাংখীরা সুর গীতে পালন করলেন ৭০তম জয়ন্তী। সেই সঙ্গে ১০০০ পৃষ্ঠা সম্বলিত সম্মাননা গ্রন্থ প্রকাশনা উতসব পালন করেন জয়ন্তী উদযাপন কমিটি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অধ্যাপক মাহফুজা খানম ৭০তম জয়ন্তী উদযাপন কমিটি এ আয়োজন করে করে। বাংলা একাডেমি, ঢাবি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ জেলা সমিতির, উদিচী শিল্প গোষ্ঠি, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ছাড়াও শতাধিক সংগঠন, বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠি, সহকর্মীরা, শিশু সংগঠনের শিশুরা মাহফুজা খানমের ৭০ তম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

শুরুতে ৭০ জন শিশু মোমবাতি জালিয়ে ‘আগুনের পরশ-মণি ছোঁয়াও প্রাণে, এ জীবন পূণ্য করো ………. সঙ্গীত ও ফুলেল শুভেচ্ছায় জয়ন্তী উতসব আরম্ব হয়।

অধ্যাপক মাহফুজা খানম স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করছেন বিশিষ্টজনরা- ছবি: বিনিয়োগবার্তা

অধ্যাপক মাহফুজা খানম স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করছেন বিশিষ্টজনরা- ছবি: বিনিয়োগবার্তা

এই বিশিষ্ট অধ্যাপক, সংগঠকের জন্মজয়ন্তীতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে বাংলা্ একাডেমীতে আসেন শিশু,যুবক, তরুন, বৃদ্ধ সকল বয়সের মানুষ।

অধ্যাপক মাহফুজা খান ৭০তম জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, মাহফুজা খানমের পরিবারের সঙ্গে আমার তিন পুরুষের সম্পর্ক। সেই সুবাদের তাকে অনেক অল্প বয়স থেকে চিনি। তার ৭০ বছর পূর্ণ হয়েছে শুনে আমার কাছে একটা সংবাদের মতো মনে হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে যখন নারীদের পরিবারের শৃঙ্খলার কঠোর ভাবে আবদ্ধ করে রাখার ব্যবস্থা ছিল সেই সময়ে মাহফুজা পরিবারিক সামাজিক শৃ্ঙ্খল ভেঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এসে ছাত্র আন্দোলন যোগ দিয়েছিল। আর এ কারণে তাকে অনেক মাসুল দিতে হয়েছে। ছাত্র হিসেবে যেমন ছাত্রদের অধিকার আদায়ে কাজ করেছে পরবর্তীতে শিক্ষক হিসেবে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে, করছে। ফলে তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাছাড়া শিশু সংগঠন, নারী সংগঠনের মাধ্যমেও সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে। যার কারণে তার সত্তরতম জয়ন্তী অর্থপূর্ণ হয়েছে। তার কর্ম নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরনা,উতসাহ দিবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মাহফুজা আমার বড় বোনের মতো। তার বয়স ৭০ বছর পার হলেও প্রান শক্তিতে তিনি তরুন। তিনি সব সময়ই সময়ই সামাজিক দায় দায়িত্ব পালন করেন। সব সময় শিশু, তরুনদের উজ্জিবীত করে রাখেন। তার জন্ম দিন পালনের উর্ধ্বৈ তিনি। তবে জয়ন্তী পালনের মাধ্যমে তার সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম জেনে ভালো কাজে উতসাহিত হবে।

জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক, মাহফুজা খানম এর সহপাঠী বিশিষ্ট কলাম লেখক মোনায়েম সরকার বলেন, ষাটের দশকে ছিল বাঙালীর স্বর্ণযুগ। তখন ঢাবিতে পদার্থ বিজ্ঞানে পড়ার সময়ে মাহফুজার সঙ্গে পরিচয়,বন্ধুত্ব। যা আজও টিকে আছে। এ পর্যন্ত যা দেখেছি তা হলো তিনি, আগেও মানুষের জন্য পরিশ্রম করতো, এখনো মানুষের জন্য কাজ করেন। যার মনে কোনো দ্বিধা নেই। যার মধ্যে কাজ আর কাজ।

ড. অজয় রায় বলেন, মাহফুজা খানম আমার ছাত্রী। তিনি শুধু দীপ্তময়ী নয় তিনি অনেক কর্মঠ। আমি আশা করবো এই মহীয়সী নারীর পথ অবলম্বন করবেন তরুনরা। তিনি যে আদর্শ দেখিয়েছে ভবিষ্যত প্রজন্ম তা অনুসরণ করলে উপকৃত হবে।

জন্ম জয়ন্তীতে যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং স্মারক গ্রন্থ সমৃদ্ধ করার জন্য যারা লেখা দিয়েছেন সেসব শুভাকাংখীদের অধ্যাপক মাহফুজা খানম ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ব্যাডেন পাওয়েলের একটা উক্তি আছে- ‘ জীবন কি ? যেখানে জন্ম গ্রহণ করেছো সেখান থেকে শুভ কর্ম দিয়ে সমাজকে বদলে দেয়া।’ আমি এই উক্তিকে ধারন করেই জীবন চলেছি। সততা, ন্যায়-নীতির মধ্যে থেকে সমাজকে বদলে দেয়ার চেষ্টা করেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন সততা ন্যায় নীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে পারি সেজন্য সকলের সহযোগিতা চাই।

‘ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রী এখানে থেমোনা….. সঙ্গীতের মাধ্যমে জয়ন্তী উতসব সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।

অধ্যাপক মাহফুজা খানমের ৭০ তম জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে ড. আলী আজগর, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ড. লেলিন চৌধুরী বিশিষ্টজন এবং তার স্বামী সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ ছাড়া পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১৪ এপ্রিল অধ্যাপক মাহফুজা খানমের ৭০তম জন্মদিন।
বিনিয়োগবার্তা/রাসেল