এইমাএ পাওয়া

পর্যটন শিল্পের বিকাশে ডিজিটাল উদ্যোগ

মে ২৮, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা:

পর্যটন শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) ডিজিটাইজেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটক বিশেষ করে তরুণ পর্যটক আকর্ষণের জন্য বিটিবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় পর্যটন সংস্থা বিটিবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক, টুইটার ও উইচ্যাটে নিজস্ব ওয়েব পেইজ পরিচালনা করছে।

বিটিবির আইটি ইনচার্জ শাহজাহান কবির বলেন, আমরা পর্যটকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। বর্তমানে পর্যটনের ফেসবুক পেইজে ৫০ হাজার ফলোয়ার আছে।
তিনি বলেন, ‘দেশের এবং দেশের বাইরের আগ্রহী পর্যটকরা প্রতিদিন আমাদের পর্যটন কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে চান। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য ফেসবুকে ও অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমের সাইটগুলোতে দিয়ে থাকি।’

সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমকে যে কোন পণ্যের বাজারজাতকরণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে বিটিবি কর্মকর্তা বলেন, আমরা এই মাধ্যমে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটক আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, বিটিবি ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ পর্যটনের বিজ্ঞাপন প্রচারের পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী অর্থবছরের জন্য ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউিবে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য বিটিবি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বাজেট বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে।

দেশের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ভিডিও দেখানোর জন্য বিটিবি একটি নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল চালু করেছে। শাহজাহান কবির বলেন, ‘বর্তমানে ইউটিউব চ্যানেল সবার কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পশ্চিমা তরুণ সমাজ টেলিভিশনের চেয়ে ইউটিউবই বেশি দেখে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি বিটিবি ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপও তৈরি করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া, থাকা, খাওয়ার জায়গা, পরিবহন ব্যবস্থা, আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র, ইভেন্ট ক্যালেন্ডার, বিনোদন, কেনাকাটা ও ট্যুর ক্যালকুলেটর সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশে পর্যটনে আগ্রহী যে কোন পর্যটক পর্যটন সংক্রান্ত সব তথ্য পাবেন। এই অ্যাপ প্রমোট করার জন্য আমরা বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় প্রদর্শনের জন্য কাজ করছি।

তিনি বলেন, বিটিবি পর্যটনের ওয়েবসাইটকেও নতুনভাবে সাজিয়েছে। এই নতুন ওয়েবসাইট এখন আরো অনেক বেশি পর্যটক বান্ধব ও তথ্যবহুল। এতে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর দৃষ্টিনন্দন ছবিও আপলোড করা হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে এই ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটরস, ট্রাভেল এজেন্টস, হোটেল, মোটেল এবং রেস্টুরেন্টের লিংক দেয়া আছে।

বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল উদ্যোগের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড পর্যটনকে ডিজালাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিওএবি)-এর প্রেসিডেন্ট তৌফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্বের পর্যটন শিল্প অনলাইন মার্কেটিং-এর ওপর নির্ভরশীল। ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বিদেশী পর্যটকরা পর্যটনস্থল নির্বাচন করে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান ইন্টারনেট ভিত্তিক বিশ্বে অনলাইন মার্কেটিং আবশ্যক। ভার্চুয়াল জগতের সাহায্য নেয়া ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। এটি অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক যে আমাদের সরকার পর্যটন শিল্পকে অনলাইনে প্রচারের ব্যবস্থা করেছে।’

বিনিয়োগ বার্তা/এমআর