এইমাএ পাওয়া

দেশে মোটরসাইকেলের দাম কমেছে

জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

নাহিদ, বিনিয়োগবার্তা:
মোটরসাইকেলের সংযোজিত যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমানো হয় গত বাজেটে। এর প্রভাবে দেশে মোটরবাইকের দাম কমেছে। এ পর্যন্ত বাজাজ, সুজুকি, হোন্ডা ও হিরোর মতো কয়েকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের দাম এরই মধ্যে কমেছে। এদিকে আরও কিছু ব্র্যান্ড দাম কমানোর প্রক্রিয়াতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

শর্তসাপেক্ষে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দুই বছরের জন্য কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। সেই সুবাদেই কমছে মোটরসাইকেলের দাম। প্রথম ধাপে বাজারে গত মাসের শেষে ‘সুজুকি’ ব্র্যান্ডের আমদানিকারক র‌্যাংকন মোটরবাইক লিমিটেড ও ‘হোন্ডা’ ব্র্যান্ডের সংযোজক বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড (বিএইচএল) মোটরসাইকলের দাম কমায়। আর নিটল মার্কেটিং কোম্পানি তাদের ‘হিরো’ ব্র্যান্ডের দাম বিশেষ অফারে কমায় ১ জানুয়ারি থেকে। আর গত বৃহস্পতিবার দেশের ‘বাজাজ’ ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের দাম কমায় আমদানিকারক উত্তরা গ্রুপ অব কোম্পানি।

এ বিষয়ে উত্তরা গ্রুপ অব কোম্পানির ডেপুটি হেড অব অপারেশন অ্যান্ড লজিস্টিক মাকসুমুল আজিম বলেন, সরকারের প্রদত্ত সুবিধা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে মোটরবাইকের দাম কমানো হয়েছে। গত বাজেটে সিকেডি মোটরসাইকেলে আগের ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ করা হয়েছে।এতে আমাদের যে পরিমাণে খরচ কমেছে সেই সাপেক্ষেই এ মূল্যছাড়।

গতকাল সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির মোটরসাইকেলের দাম কমেছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। তুলনামূলক বেশি কমেছে ৮০ সিসি ও ১০০ সিসি বাইকের। বিক্রেতারা জানান, বাজাজের ১০০ সিসি সিটি ব্র্যান্ডের এখন দাম ৯৫ হাজার ৫০০, যা আগে বিক্রি হতো এক লাখ ছয় হাজার টাকায়। বাজাজ মোটরসাইকেলের মধ্যে একইভাবে কমেছে প্লাটিনা, ডিসকোভার, পালসার মডেলের দামও। পালসারের সর্বশেষ মডেল ১৫০ সিসি এএস’র দাম বর্তমানে ১৮ হাজার টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকায়।

অন্যদিকে হোন্ডা ৮০ সিসি সিডি৮০ মডেলের মোটরসাইকেলের আগের দাম ছিল ৯৯ হাজার ৯০০, যা এখন ৮৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া হোন্ডার ড্রিম নিও, সিবি শাইন, সিবি ট্রিগারসহ সর্বশেষ সিবিআর মডেলের দাম কমেছে। গতকাল ১৫০ সিসি হোন্ডা সিবিআর১৫০আর মডেলের গাড়ি বিক্রি হয় চার লাখ ৫০ হাজার টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে চার লাখ ৯০ হাজার টাকায়। এ মডেলের দাম কমেছে টাকায় সবোচ্চ ৪০ হাজার।

এদিকে সুজুকি ব্র্যান্ডের শোরুম ঘুরে দেখা যায়, এ ব্র্যান্ডের কমেছে হায়াতে, সিøং শট, জিএস১৫০আর ও জিক্সার মডেলের মোটরসাইকেলের দাম। বর্তমানে সুজুকির হট ব্র্যান্ড ‘জিক্সার এসএফ মটোজিপি ডিডি’ মডেলের বাইক বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৯৫০ টাকায়, যা আগে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হতো।

দাম কমা ও ক্রেতার আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইস্কাটন রোডে সোনারগাঁও মোটরসের স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ মোটরসাইকেল ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশের বলেন, সব জনপ্রিয় কোম্পানিই বাইকের দাম কমিয়েছে। এতে ক্রেতারা প্রচুর উৎসাহী। বিক্রিও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তবে আরও নতুন চমকের জন্য অপেক্ষা করছে অনেকে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার দেশের মোটরসাইকেল তৈরির সুবিধার্থে আমদানি শুল্কহার কমায়। যাতে দেশের বিভিন্ন মোটরসাইকেল আমদানি ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে বাংলাদেশে উৎপাদন শুরু করতে পারে। স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদন সাপেক্ষে এ রেয়াতি শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

দেশে মোটরসাইকেলের বাজার ক্রমেই বড় হচ্ছে। বছরে দেশে প্রায় তিন লাখ মোটরবাইক বিক্রি হয়। বর্তমানে এ বাজারের সিংহভাগই ভারতীয় কোম্পানির দখলে। এছাড়া দেশে সংযোজিতসহ চীন, তাইওয়ান, জাপান ও ইউরোপের মোটরসাইকেল বাজারে বিক্রি হয়। তবে ভারতের দখলেই রয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ বাজার।

বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে সবচেয়ে বড় শেয়ার ভারতের বাজাজ ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের। এ ব্র্যান্ডটি প্রায় ৩০ শতাংশ মোটরসাইকেল বিক্রি করে। এছাড়া ভারতের সুজুকি, হিরো, টিভিএস, ইয়ামাহা দেশে উন্নতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। অন্যদিকে দেশে বর্তমানে সংযোজন হচ্ছে জাপানি হোন্ডা ও বাংলাদেশি রানার ও যমুনার মোটরসাইকেল।
বিনিয়োগবার্তা/নাহিদ/ইকবাল