এইমাএ পাওয়া

দক্ষতায় জ্বালানি খরচ কমানো সম্ভব

অক্টোবর ২২, ২০১৬

ডেস্ক, বিনিয়োগবার্তা:

জ্বালানির ব্যবহার সংক্রান্ত দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে ২১ শতাংশ জ্বালানি খরচ কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা আরও বলেন, জ্বালানি বিষয়ক দক্ষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো শতকরা ১৬ ভাগ পর্যন্ত জ্বালানির ব্যবহারও কমাতে পারে।

শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ: শিল্পখাতে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা উন্নয়নে সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

ডানিডার অর্থায়নে পরিচালিত দি এনার্জি এফিশিয়েন্ট প্রকল্পের সহায়তায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এনসিসিআই) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়্যা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকায়েন হেমনিটি উইন্থরা।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শামীম উল হক।

সেমিনারে দি এনার্জি এফিশিয়েন্ট প্রকল্পের সিনিয়র উপদেষ্টা স্টেফান এনভোল্ডসেন জানান, ডানিডা এবং নরডিক চেম্বারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জ্বালানি দক্ষতা প্রকল্পের ফলাফলে দেখা যায়, জ্বালানির দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো ১৬ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানির ব্যবহার কমাতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানির খরচ শতকরা ২১ভাগ এবং কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমন ১৮ শতাংশ কমানো সম্ভব।

তিনি জানান, প্রকল্পে অংশ নেওয়া ৩৬টি কারখানার তথ্য পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, জ্বালানির ব্যবহার সংক্রান্ত দক্ষতা বাড়িয়ে বার্ষিক গড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার করে মোট ৫২ লাখ ডলারের জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব।

২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোষাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে শামীম উল হক বলেন, এ খাতে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি তৈরি পোষাক রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

হোসেন খালেদ বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল, তৈরি পোষাক, সিমেন্ট, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক এবং সারসহ অন্যান্য খাতের শিল্প-কারখানাগুলোতে চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করতে পারলে, কম খরচে পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব।

ডিসিসিআই সভাপতি টেকসইযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন এবং ক্রমান্বয়ে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্ক-এর রাষ্ট্রদূত মিকায়েন হেমনিটি উইন্থরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি বর্তমানে সময়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে আরোও মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান।

ডেনিশ রাষ্ট্রদূত শিল্পখাতে দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ডেনমার্ক-এর প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানান।

রয়েল ডেনিশ দুতাবাসের বাণিজ্য উপদেষ্টা সরেন রোবেনহেগেন বলেন, সবুজ শিল্পায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ডেনমার্ক সারা পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে ডেনমার্ক আগ্রহী।

তিনি আগামীতে বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান জ্বালানি উৎসের পাশপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে পানি, বাতাস, বর্জ, সূর্যরশ্মি প্রভৃতি হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান।

আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ, সহ-সভাপতি খন্দকার আতিক-ই-রাব্বানী, এফসিএ, পরিচালক সেলিম আকতার খান, প্রাক্তন সভাপতি রাশেদ মাকসুদ খান, প্রাক্তন সহ-সভাপতি মোঃ শোয়েব চৌধুরী, প্রাক্তন পরিচালক দাতা মাগফুর অংশ নেন।

ডিসিসিআই সাবেক ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি হায়দার আহমেদ খান, এফসিএ, সাবেক সহ-সভাপতি আবসার করিম চৌধুরী এবং ডিসিসিআইর মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগবার্তা/ইমন