এইমাএ পাওয়া

চামড়া সংগ্রহ নিয়ে উদ্বেগে খুলনার ব্যবসায়ীরা

আগস্ট ১২, ২০১৭

খুলনা প্রতিনিধি, বিনিয়োগ বার্তা:
ঈদুল আজহার আর এক মাসও বাকি নেই। সাধারণত এ মৌসুমে চামড়া ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। অথচ ঈদ ঘনিয়ে এলেও এ বছর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিতে পারছেন না খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীরা। পুঁজি ও স্থান সংকট, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা ও চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকঋণ না পাওয়ায় তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর সঙ্গে চামড়ার দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তো রয়েছেই। এ অবস্থায় সংকট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বছর আগে নগরীর শেরেবাংলা রোডের পাওয়ার হাউজ মোড়ে গড়ে ওঠে কাঁচা চামড়ার ব্যবসা। সে সময় তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। আর এখন মাত্র কয়েকজন ব্যবসায়ী কোনো রকমে এ পেশায় টিকে রয়েছেন। তবে তাদের নিজেদের কোনো দোকান নেই। ঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে। মূলধন সংকটের কারণে ব্যাংকের পাশাপাশি মহাজনদের কাছ থেকেও চড়া সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। এদিকে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এতে পুঁজির সংকট আরো বেড়ে গেছে।

দুর্ভোগের এখানেই শেষ নয়। অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যেই কোনো রকমে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে খুলনার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের। যে কয়েকজন বর্তমানে এ পেশার সঙ্গে জড়িত, তাদের নিজস্ব দোকান নেই। দোকান ভাড়া পাওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আবার ভাড়া পাওয়া গেলেও সেগুলোর অবস্থা একেবারেই করুণ। বিবর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরগুলোয় বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ে। এতে কাঁচা চামড়া পচে যায়।
এদিকে মাঝে মধ্যেই বাড়িওয়ালার পক্ষ থেকে দোকান ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়। এরই মধ্যে কয়েকজন দোকান ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, ৩-৪ লাখ টাকা অগ্রিম ও মাসিক ৪-৬ হাজার টাকা ভাড়ার প্রস্তাব দিয়েও ঘর পাচ্ছেন না তারা। সংকট নিরসনের জন্য চামড়া ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই জায়গা বরাদ্দ চেয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কাছে আবেদন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নগরীর জোড়াগেট, গল্লামারী বা উপযুক্ত অন্য কোথাও জায়গা বরাদ্দ চেয়ে কেসিসির কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হচ্ছে না। খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আমানউল্লাহ বলেন, আমরা বেশ বিপদের মধ্যে রয়েছি। সংকটের কথা জানাতে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। নগরীর জোড়াগেট এলাকায় কেসিসির নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বাজার রয়েছে, যেটি কর্তৃপক্ষ জমাতে পারেনি। এখন সেখানে শুধু বছরে একবার কোরবানির হাট বসে। এর বাইরে সারা বছরই জায়গাটি খালি পড়ে থাকে। এখানে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করলে তারা তো উপকৃত হবেনই, সরকারের রাজস্বও বেড়ে যাবে।

মূলধন ও অর্থ সংকট প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলেন, ব্যাংক থেকে তাদের ঋণ দেয়া হয় চলতি হিসাবের বিপরীতে। এর পরও ব্যাংকে সম্পত্তির দলিল জমা দিতে হয়। এদিকে চামড়া বিক্রি বাবদ ট্যানারি মালিকদের কাছে অন্তত ৮ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। ব্যবসা ভালো নয় বলে তারা টাকা দিচ্ছেন না।

ঈদের আর সপ্তাহ তিনেক বাকি রয়েছে। শিগগিরই কাঁচা চামড়া কেনার মৌসুম শুরু হবে। এ অবস্থায় অর্থ সংকটের কারণে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীরা। তাদেরই একজন মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, খুলনার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা পথে বসতে চলেছেন। তারা দেনায় জর্জরিত। চড়া সুদে টাকা এনে ব্যবসা করতে হচ্ছে। সরকার একটু নজর দিলে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে পারতাম।
তিনি জানান, ট্যানারি মালিকরা গত তিন বছরের বকেয়া টাকা পরিশোধ করেননি। চামড়া সংগ্রহের এ ভরা মৌসুমে তারা যদি বকেয়া পরিশোধ না করেন, তবে খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীদের রীতিমতো পথে বসতে হবে।

বিনিয়োগ বার্তা //এল//