এইমাএ পাওয়া

কেরানীগঞ্জে বন্দুকযুদ্ধে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ল্যাংড়া আমির নিহত

আগস্ট ১, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা:

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর পরাগ অপহরণ মামলার মূল আসামি মুক্তার হোসেন আমির ওরফে ল্যাংড়া আমির গতকাল পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন ৪ পুলিশ সদস্য।

সোমবার (৩১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চর মিরেরবাগের বালুর মাঠ এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, বেলা ১১টায় এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। বর্তমানে আমিরের মরদেহ বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিডফোর্ড) মর্গে রয়েছে ।

থানার উপ-পরিদর্শক শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্দুকযুদ্ধে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এরা হলেন-উপ-পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম, মো. শাহীন, শাখাওয়াত ইমতিয়াজ ও কনস্টেবল ফেরদৌস।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় আমির। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালিয়ে তাকে আটক করে। ওই সময় তার হেফাজত থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও ১৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই কেরানীগঞ্জের ত্রাস হিসেবে পরিচিতি পায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ল্যাংড়া আমির।

২০১২ সালের ১১ নভেম্বর সকাল সোয়া ৭টায় স্কুলে যাওয়ার সময় কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ার বাসার সামনে থেকে মা লিপি মণ্ডল, বোন পিনাকী মণ্ডল ও তাদের গাড়িচালক নজরুলকে গুলি করে শিশু পরাগকে মায়ের কোল থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আমির। তিনদিন পর গভীর রাতে কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজার এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় পরাগকে উদ্ধার করে র্যা ব।

এ ঘটনার পর ফের আলোচনায় আসে আমির। পরে সে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয় এবং আদালতে পরাগ মণ্ডল অপহরণে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দেয়। সে হত্যা ও অস্ত্রসহ এক ডজন মামলার আসামি। গত বছর কেরানীগঞ্জের কামাল হত্যা মামলায় হাজিরার জন্য তাকে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হলে ঢাকা জেলা জজ আদালতের হাজত খানা থেকে কৌশলে পালিয়ে যায় সে।

আদালত থেকে পালিয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে ল্যাংড়া আমির। চলতি বছরের ২২ মার্চ (বুধবার) সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার চুনকুটিয়া চৌরাস্তার সাহানা ক্লিনিক থেকে রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন সাহানা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ডা. সাহানা ও তার স্বামী রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. আবু নোমান। তাদের রিকশা র্যাব ক্যাম্পের সামনে এলে মোটরসাইকেলে করে দুই লোক এসে তাদের হাতে একটি চিরকুট ধরিয়ে দেয় এবং ২ রাউন্ড গুলি করে চলে যায়। যাওয়ার সময় বলে, ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে পরের দিন গুলি তোদের বুকে করা হবে। এসময় একজন নিজেকে ল্যাংড়া আমির বলে পরিচয় দেয়। তাদের ছোড়া গুলি রিকশাচালকের পায়ে বিদ্ধ হয়।

২২ মে (সোমবার) সন্ধ্যায় একই পদ্ধতিতে কেরানীগঞ্জের এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে গুলি করে তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আমির। আসর নামাজ পড়ে ওই ব্যবসায়ী রিকশায় করে জিয়ানগরের বাসায় ফিরছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে করে মসজিদের সড়কে হেলমেট পড়া দুই দুর্বৃত্ত তার সামনে এসে বাম পায়ে গুলি করে। এরপর তার হাতে একটি চিঠি দিয়ে দ্রুত তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। চিঠিতে লেখা ছিলো, “নুরু আজ তোর জীবনটা ভিক্ষা দিলাম, তোর নাতিকে নিয়ে যেতে পারতাম। আজকের পরও যদি আমাকে ভয় না পাস তাহলে খুন করে দেখাবো। দুই দিনের ভেতর এক কোটি টাকা দিবি। আমি কল করে বলে দিবো, কোথায় কীভাবে টাকা দিতে হবে।”

৯ জুলাই (রোববার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ী শাহ্ আলমকে গুলি করে ল্যাংড়া আমির। এতে তিনি বুকের বামপাশে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিনিয়োগ বার্তা/এমআর