এইমাএ পাওয়া

কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় ৩৭৯৮ কোটি টাকা

মে ১১, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগ বার্তা :

গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে কৃষিপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা, যা সম্প্রিতিক সময়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম। তবে সুখকর বিষয় হচ্ছে, বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রথম ১০ মাসের তুলনায়ও এই খাতের রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত অর্থবছরের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রথম ১০ মাসে এ খাতের পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে চা রপ্তানিতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে এ খাতে আয় হয়েছে ৪০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩০ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।

একইসঙ্গে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের আয় ১৬৫ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছে, আগের অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে চা রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সবজি রপ্তানিতে ৭ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ সময়ে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ কম। পাশাপাশি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সবজি রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৮৭ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে তামাকজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা এ সময়ের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের আয় ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ কমেছে।

গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে তামাক ও তামাকজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৪ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ফল রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১০ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৪ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ফল রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।

আলোচ্য সময়ে মসলা জাতীয় পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। উক্ত সময়ের মধ্যেই এই খাতে আয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের এ খাতের রপ্তানি আয়ের তুলনায় এবারের আয় ২১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে মসলা জাতীয় পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে শুকনো খাবার রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৯ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ের আয়ের তুলনায় এ খাতের আয় ১৮ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে শুকনো খাবার রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ২৩ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। যা এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ কম। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের আয় ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ২২ কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

বিনিয়োগ বার্তা/ জিকো