এইমাএ পাওয়া

উত্তেজনার তুঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সেমিফাইনাল

জুন ১২, ২০১৭

পারভেজ আবেদীন, বিনিয়োগ বার্তা:

এটা প্রায় নিশ্চিত যে, আসন্ন ১৫ জুন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ। ভারতকে বি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ধরে এ গ্রুপ রানার্সআপ বাংলাদেশের সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করাও হয়ে গেছে। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত এবং কার্যকর জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর আনুষ্ঠানিক ফিকচারেও দেখানো হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সেমিফাইনাল। আর আসন্ন সেই সেমিফাইনালকে ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে সর্বোচ্চ উৎসাহ, আগ্রহ আর কৌতূহল।

বলার অপেক্ষা রাখে না, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত বিশ্ব আসরে আগে কখনই সেমিফাইনাল খেলেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবার কোয়ার্টারফাইনাল খেললেও আইসিসির কোন মেগা বা বিশ্ব আসরে এই প্রথমবার সেমিফাইনাল খেলছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। এতে টাইগার ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে একটা অন্যরকম রোমাঞ্চ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ এই পরাশক্তি ভারতের কাছে বিতর্কিত হারেই ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল টাইগারদের।

কিন্তু টাইগার ভক্তরা সেই বিতর্কিত ম্যাচের পুনরাবৃত্তি চান না। তাদের লক্ষ্য একটাই ভারতের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালের হারের প্রতিশোধ এবারের চ্যাম্পিয়ন ট্রফির সেমিতে নিতে হবে।

তাই স্কুল শিক্ষার্থী, পাড়ার-গলির দূরন্ত কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বণিতা সবার মাঝেই এ সেমিফাইনাল আলাদা সাড়া জাগিয়েছে। একটা অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য সবার মাঝে। উন্মুখ অপেক্ষা। কখন শুরু হবে সেমির লড়াই। কোটি চোখ তাকিয়ে বার্মিংহামের এজবাস্টনের দিকে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে হওয়া ঘটনাবহুল কোয়ার্টার ফাইনালের দুটি ঘটনা বাংলাদেশ সমর্থক ও ভক্তদের মনের মাঝে দাগ কেটে আছে। বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকদের বড় অংশ এখনো মনে করেন, ঐ ঘটনাবহুল কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ার ও টিভি আম্পায়ারের দুটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে না গেলে ঐ দিনের চিত্র ভিন্ন হতে পারতো, অন্তত একটি সিদ্ধান্ত অনুকূলে আসলেও হয়তো ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারতো। তাই ঐ ম্যাচ এখনো টাইগার সাপোর্টারদের আফসোস আর যন্ত্রনার কেন্দ্র-বিন্দু হয়েই আছে।

সেই থেকে টিম ইন্ডিয়াও অন্যরকম প্রতিপক্ষ হয়ে গেল বাংলাদেশের। তারপর থেকে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। অন্যরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহাওয়া। এর মাঝে আবার গত বছর বিশ্ব টি-টোয়েন্টির গ্রুপ ম্যাচটিও অন্যরকম উত্তাপ ছড়ালো।

সব কিছুর পরও টাইগার ভক্তদের প্রত্যাশা পরাশক্তি ভারতের বিপক্ষে জয় পাওয়া কষ্টকর হলেও অসম্ভব নয়, অন্যদিকে ভারত পরাশক্তি হলেও সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশ দলকে হেয় করার উপায় নেই। কারণ বাংলাদেশ এখন আর তলানির দল নয় বলেই প্রতিনিয়ত প্রমাণ দিয়ে আসছে।

কাজেই আগামী ১৫ জুন বার্মিংহামের এজবাস্টনে বাংলাদেশ-ভারতের সেমির লড়াই টাইগার ভক্তদের কাছে অন্যরকম ক্রিকেট যুদ্ধ হিসেবেই বাড়তি উৎসাহ জোগাবে।

বিনিয়োগ বার্তা/পিএ