এইমাএ পাওয়া

আজ ১০ টাকার শেয়ার কিনে কাল ২০ পেয়ে যাব এটা ঠিক না: মাজেদুর

আগস্ট ৪, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা:

দেশে যখন রিজার্ভ চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটল জঙ্গি হামলা। যা নিয়ে দেশে বিদেশে চলছে আলোচনা সমালোচনা। ঠিক এই মুহূর্তে দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগদান করেছেন কে এ এম মাজেদুর রহমান। তার সঙ্গে অনলাইন নিউজ পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকদের আলাপকালে শেয়ারবাজারের টুকিটাকি ওঠে আসে। পাঠকের উদ্দেশ্যে তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

বিনিয়োগবার্তা: সারাদেশে যখন জঙ্গি ও সাইবার হামলা নিয়ে আতঙ্ক ঠিক সেই মুহূর্তে আপনি ডিএসই’র এমডি হিসেবে যোগদান করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তার বিষয়ে কি মনে করছেন এবং বিনিয়োগকারীদের কিভাবে আশ্বস্ত করবেন?

মাজেদুর রহমান : আমি যোগদানের পর থেকে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে আপনারা জানেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সফটওয়ার নিয়ে নাসডাক কাজ করে। এটা খুবই শক্তিশালী সফটওয়্যার। সেই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি। সেই হিসেবে আমাদের ডিএসই সাইবার আক্রমণ থেকে অনেকটা নিরাপদ বলে মনে করছি।

তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ফান্ডামেন্টাল সিকিউরিটি। যদি আমি না জানি কি কি কারণে আমার ডাটা হ্যাকড হতে পারে। আমার পাসওয়ার্ড যদি দুর্বল থাকে। এসব বিষয়ে যদি ধারণা না থাকে তবে আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাই আমি প্রথমে যে কাজটি করার পরামর্শ দিয়েছি তার মধ্যে সর্বস্তরের ব্যবহারকারীদের অ্যাওয়ারনেস এবং তাদের মধ্যে যাতে সিকিউরিটি বজায় থাকে। তারপরও কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, সিস্টেমস কিভাবে কাজ করছে, আইটি অডিট, ডেটা অডিট ঠিকভাবে করছে কি না তা খতিয়ে দেখাসহ আরো অন্যান্য বিষয়ে সজাগ আছে ডিএসই।

বিনিয়োগবার্তা : সম্প্রতি সময়ে দেশে জঙ্গি হামলা কারণে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগে কোনো প্রভাব পড়বে কি না?

মাজেদুর রহমান : না, এখানো কোনো প্রভাব পড়েনি, আশা করি সামনেও পরবে না। বরং গত কয়েক মাসে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশিদের বিনিয়োগ বেড়েছে। এতেই বোঝা যায় আমাদের শেয়ারবাজারে প্রতি বিদেশিদের আগ্রহ আছে। আর জঙ্গি বা সন্ত্রাস নিয়ে আমাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই, তবে সাবধান হওয়ার প্রয়োজন আছে। নাশকতা শুধু আমাদের দেশেই হয়নি, বিশ্বব্যাপী হচ্ছে।

বিনিয়োগবার্তা: ডিএসই’র উন্নয়নে কি ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছেন। ভবিষ্যতে নতুন প্রডাক্ট যুক্ত হতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে ডিএসই কতটা প্রস্তুত?

মাজেদুর রহমান : আসলে পরিকল্পনা আমার আগেই করা আছে। আর সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলো এখন আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তার মধ্যে রয়েছে ইটিএফ ফান্ড। সেটার সম্পর্কে বিএসইসির ইতোমধ্যে গাইড লাইন দিয়েছে। এছাড়া নতুন যেসব প্রডাক্ট বাজারে আনার চেষ্টা করছি। এসব প্রডাক্ট রাতারাতি আনাও সম্ভব হবে না। এগুলো নিয়ে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হবে।

এসব প্রডাক্টের বিষয়ে শুধু ডিএসই’র নয় ট্রেক হোল্ডার, বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্টদের সকলের ধারণা থাকা উচিত। জিরো কুপন বন্ড আমি প্রথম বাংলাদেশে পরিচিত করেছিলাম। কিন্তু তা দুর্ঘটনাবশত স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়নি। এসব বিষয়গুলো পরিচালনার ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। এছাড়া আরো যতগুলো নতুন কনটেন্ট আসবে সেগুলোর উন্নয়নে যথাসময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বিনিয়োগবার্তা : আপনি যোগদানের পর কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে কোন কোন সমস্যাকে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন?

মাজেদুর রহমান : আমি এখনও দেখছি। আমি যা দেখব তা হলো আমার প্লাটফর্ম। আমার প্লাট ফর্মে আমি দেখছি যে কাজটা করতে ২০ দিন সময় লাগছে সেটা ৭ দিনে কিভাবে করা যায়। আমি আমার টিমকে উদ্বুদ্ধ করছি সময় কম নিয়ে যে কোনো কাজ শেষ করার।

বিনিয়োগবার্তা: বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দরে উল্লফন দেখা যায়। এ বিষয়ে ডিএসই শুধুমাত্র একটি নোটিশ প্রদান করে দায়িত্ব শেষ মনে করে। অথচ এসব কোম্পানির শেয়ার কিনে অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ বিষয়ে কি বলবেন?

মাজেদুর রহমান : উল্লফন বা পতনের দিকে লক্ষ্য না করে আমাদের যে ভালো লিস্টেড কোম্পানিগুলো রয়েছে তাদের যে কোনো প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কথা নয়। তবে অবশ্যই ভালোভাবে জেনে বুঝে যাচাই করে বিনিয়োগ করতে হবে। এটা আশা করা ঠিক হবে না যে, আমি আজ ১০ টাকায় শেয়ার কিনে আগামীকাল ২০ টাকা পেয়ে যাব। সেটা বাজারের স্বার্থেও ভালো না, বিনিয়োগকারীর স্বার্থেও ভালো না। আর যেসব কোম্পানির শেয়ার অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে তা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিনিয়োগবার্তা : মোবাইল অ্যাপস চালু হলেও লেনদেনে তেমন গতি ফিরছে না। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।

মাজেদুর রহমান : আমরা আপডেট থাকতে চাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। তারই একটি পদক্ষেপ মোবাইল অ্যাপস। এটা চালু করার পরই কাজ শেষ হয়ে যায়নি। অ্যাপসের জন্য আমরা প্রতিদিন প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রশিক্ষণে ব্রোকাররা এবং বিনিয়োগকারীরাও অংশ গ্রহণ করেছে। আশা করি ধীরে ধীরে এই অ্যাপস সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা ভালোভাবে জানতে পারবে, শিখতে পারবে। আর যখন বিনিয়োগকারীরা শিখতে পারবেন তখন অ্যাপসের সুবিধা পুরোপুরি ভোগ করতে পারবে।

বিনিয়োগবার্তা: বাজারের লেনদেন গতিশীল না অস্থিতিশীল, আপনি কি মনে করছেন?

মাজেদুর রহমান : আমি বলবো বাজার গতিশীলতার দিকেই যাচ্ছে।