এইমাএ পাওয়া

অপারেশন থিয়েটারে সার্জনদের রোগী কাটা ছেড়া দেখাবে গুগল কার্ড বোর্ড

এপ্রিল ১৫, ২০১৬

অপারেশন থিয়েটার: ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা:
অপারেশন থিয়েটারে রোগী, সার্জন, ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না এটাই স্বাভবিক। কোনো অপারেশনের সময় রোগীর আত্মীয় স্বজন বাইরে বসে থেকে খুব টেনশন করে। আর এখন থেকে এ টেশন দুর করতে প্রযুক্তি নিয়ে এলো সমাধান। এখন থেকে অপারেশন থিয়েটারের সকল কার্যক্রম দেখা যাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে।

প্রযুক্তির ছোয়া বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। এটা আবারও প্রমান হলো। লন্ডনে একজন রোগীর অপারেশন সরাসরি ঢাকায় থেকে দেখার সুযোগ করে দিলো এই প্রযুক্তি। ঢাকায় বসে মনে হলো লন্ডন রয়েল হাসপালের অপারেশন থিয়েটারের ভিতরে রোগীর সামনেই বসে আছি। পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল এমনই একটি অপারেশন হলো রয়েল লন্ডন হাসপাতালে। এই আধুনিক অপারেশনটি করেছন বাংলাদেশী চিকিৎসক সেন্ট বার্থেলমিউ হাসপাতাল ও বার্টস হেলথ এনএইচএস ট্রাস্টের সার্জারির কন্সাল্টেন্ট ডাঃ শফি আহমেদ। আর দেশে রাজধানীর গুলশানে আরএ হাসপাতালে বসে সার্জন, ডাক্তার, মেডিক্যাল শিক্ষাথীসহ সাধারনরা তা দেখার সুযোগ পেয়েছে। এমন একটি আধুনিক অপারেশন দেখার সুযোগ করে দিয়েছে রয়েল কলেজ অব সার্জারির কন্সাল্টেন্ট অধ্যাপক রাকিবুল আনোয়ার।

এ অপারেশন সম্পর্কে রাকিবুল আনোয়ার বলেন, কোলন ক্যান্সারের আক্রান্ত একজন ৭০ বছর বয়স্ক বৃটিশ নাগরিকের অপারেশনটি বিশ্বের অন্তত ১৩০টি দেশে সরাসরি সম্প্রচার হয়েছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
আমার বন্ধু ও সহকর্মী রয়েল লন্ডন হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের কন্সলান্টেন্ট ডাঃ শফি আহমেদ এবং তাঁর টিম এ অপারেশনটি পরিচালনা করেছন। তিনি এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন এজন্য যে, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যতম সেরা অপারেশন থিয়েটারের অভিজ্ঞতা বিশ্বের অনগ্রসর দেশগুলোর নবীন সার্জনদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। অপারেশনের সময় সার্জিক্যাল টিমের কাছে দর্শক চিকিৎসক ও মেডিকেল স্টুডেন্টরা প্রশ্নও করতে পেরেছে। যা পরে উত্তর দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সার্জারি প্রশিক্ষণে বিদ্যমান অসমতা, পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর সার্জন ও সার্জারী প্রশিক্ষণার্থীদের এ প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত করে সহজে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি ব্যবহারে মাধ্যমে যে শেখা যায় এ অপারেশনটিই তার প্রমাণ। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি শত শত বছর ধরে চলে আসা সার্জারি প্রশিক্ষণের রীতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসবে। অপারেশনের সময় আগে যেখানে প্রশিক্ষণার্থীকে সার্জন ও তাঁর সহকারীর পেছনে দাঁড়িয়ে অপারেশন ফিল্ড দেখতে যথেষ্ট সংগ্রাম করতে হত।এ প্রযুক্তি ব্যবহারে সেটি আরো সহজ করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন ডা. রাকিবুল আনোয়ার।

জানা গেছে, গুগল কার্ডবোর্ড এবং স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সার্জন, মেডিকেল শিক্ষার্থীরা এ অপারেশন দেখতে পেরেছে। অপারেশন থিয়েটারে সার্জন এবং তাঁর টিমের সাথে রাখা অত্যাধুনিক ক্যামেরায় ইমার্সিভ অপারেশন থিয়েটারের অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করার মাধ্যমে দর্শক অপারেশন থিয়েটারে ৩৬০ ডিগ্রি দেখতে পেরেছেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিতে দর্শক সার্জিক্যাল টিমের অংশ হিসেবে নিজেই অপারেশন থিয়েটারে উপস্থিত আছেন অনুভব করেছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

আরও জানা গেছে, ডাঃ শফি আহমেদ ২০১৪ সালে ইতিহাসে প্রথম বারের মত গুগল গ্লাস ব্যবহার করে ২০১৪ সালে আরেকজন ক্যান্সার রোগীর শরীরে অস্ত্রোপ্রচার করেন। যার সরাসরি সম্প্রচারে মাধ্যমে বিশ্বের ১১৫টি দেশে মোট ১৩ হাজার সহকর্মী সার্জন, চিকিৎসক, মেডিকেল স্টুডেন্ট এবং সাধারণ মানুষ দেখার সুযোগ পেয়েছে। সে সময় ৭৮ বছর বয়স্ক একজন ক্যান্সার রোগীর যকৃত ও অন্ত্র থেকে টিউমার অপসারণ করা হয়।

এদিকে তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক রাকিবুল আনোয়ার বাংলাদেশে রয়েল কলেজ অব সার্জারির প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান রাজধানীর গুলশানের আরএ হাসপাতালের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে বিশ্বমানের সার্জিকেল সেবা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি রয়েল কলেজ অফ সার্জনসের মেম্বার ও ফেলো হতে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ এবং রিকোমেন্ডেশনের জন্য প্রস্তুত করছেন।

ডান দিক থেকে ডা.শফি আহমেদ, অধ্যাপক রাকিবুল আনোয়ার, শ্রীলংকান সার্জন কানিস্ক ডি সিলভ

ডান দিক থেকে ডা.শফি আহমেদ, অধ্যাপক রাকিবুল আনোয়ার, শ্রীলংকান সার্জন কানিস্ক ডি সিলভ

তিনি গুলশানে আরএ হাসপাতাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিউটের মাধ্যমে প্রকৃত সার্জন হতে ইচ্ছুক মেডিকেল শিক্ষার্থীদের, চিকিৎসদের জন্য কয়েকটি কোর্সও চালু করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে: এমআরসিএস পার্ট এ, এআরসিএস পার্ট বি, বেসিক সাজিক্যাল স্কিল কোস, এ্যাডভান্স ট্রমা লাইফ ‍সাপোর্ট, বেসিক কোলেনোস্কপি কোর্স। এসব কোর্স আরএ ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে লন্ডন রয়েল হাসপাতাল থেকে করার সুযোগ করে দিয়েছেন ডা. রাকিবুল আনোয়ার।

ডা. রাকিবুল বলেন, দেশে দক্ষ চিকিৎসকের অনেক অভাব রয়েছে। এসব চিকিৎসকদের কথা বিবেচনা করেই দক্ষতা ও পেশাগত সনদ ও বাস্তব প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে এ ইন্সস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে চিকিৎসকরা প্রকৃতপক্ষে সার্জন হয়ে বের হতে পারবে। যার ফলে দেশের সাধারন জনগণ তাদের নিকট থেকে প্রকৃত সেবা পাবে।

তিনি বলেন, ডাক্তারদের হাতে কলমে প্রত্যেকটি বিষয় শিখিয়ে দিতে হবে। তাহলে তারা সঠিক চিকিৎসা দিতে পারবে। আরএ হাসপাতাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিউটের মাধ্যমে চিকিৎসদের হাতে কলমে শেখানো ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিনিয়োগবার্তা/ইকবাল/রাসেল